মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর হুঁশিয়ারি: মঙ্গলবারই চূড়ান্ত সময়সীমা
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মানার জন্য নির্ধারিত মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমাকে চূড়ান্ত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়: ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরান একটি প্রস্তাব দিলেও তা ‘যথেষ্ট নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি যথেষ্ট নয়। তারা যদি যা করার কথা তা করে, তবে এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে হবে, যা তারা ভালো করেই জানে।”
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে ইরান ‘সদিচ্ছা’ নিয়েই আলোচনা করছে বলে তিনি মনে করেন। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে এর আগে কয়েকবার সময়সীমা নির্ধারণ করে তা পিছিয়ে দেওয়া হলেও এবারের মঙ্গলবারের সময়সীমাকে তিনি চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বিকল্প
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার কাছে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি এখনই ফিরে আসি, তবে তাদের যা ছিল তা পুনর্নির্মাণ করতে ১৫ বছর সময় লাগবে। আমি এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমি এর শেষ দেখতে চাই।”
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইরানে অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার প্রশাসন গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, “জনগণের আত্মরক্ষার লড়াইয়ের জন্য এই অস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছিল।” তবে সেই অস্ত্রগুলো কারা নিজেদের দখলে রেখেছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইরানের তেল সম্পদ ও মার্কিন আকাঙ্ক্ষা
ইরানের বিশাল তেল সম্পদ নিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকানরা চায় আমরা বাড়িতে ফিরে যাই। কিন্তু আমার ওপর ছেড়ে দিলে আমি সব তেল দখল করে নিতাম এবং তা নিজের কাছে রাখতাম। এতে অনেক অর্থ আয় হতো।”
যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের হুমকি
ট্রাম্প দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি এটা করতে চাই না, কিন্তু আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করছি। তাদের কোনও সেতু থাকবে না, কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না, তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়েও খারাপ কিছু করতে পারি, যা এখন বলছি না।”
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হয়। তবে যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, ট্রাম্প তাদের ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা।



