ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত: নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারে তীব্র তল্লাশি
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রুকে খুঁজতে মার্কিন বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ক্রুকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। এই অভিযান বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার আক্রান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে গেলে ইরানি বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'এ-১০ ওয়ারথগ' যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হয়। সেই সময় যুদ্ধবিমানের পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি, ইরানে অভিযানে থাকা মার্কিন দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন, তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভূপাতিত করার দাবি করা দ্বিতীয় বিমান এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমান (হামলার মুখে পড়া যুদ্ধবিমান) একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে মার্কিন ও ইরানি তল্লাশি
গতকাল ইরানি বাহিনী তাদের আকাশে 'এফ-১৫ই' মডেলের একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। ওই যুদ্ধবিমানের একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও আরেকজন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানেই মার্কিন বাহিনী বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এদিকে, মার্কিন ওই নিখোঁজ পাইলটকে পেতে ইরানি বাহিনীও তল্লাশি ও অভিযান চালাচ্ছে। তাকে পেতে ইরান মোটা অঙ্কের পুরস্কারও ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বৈরিতা বিবেচনায়। উভয় পক্ষের তল্লাশি ও হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।



