ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট উদ্ধার: 'অত্যন্ত বিপজ্জনক' অভিযান
২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে অবতরণ করা মার্কিন বিমানবাহিনীর ৪৯৪তম এক্সপিডিশনারি ফাইটার স্কোয়াড্রনের একটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান ইরানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর, এর পাইলটকে উদ্ধার করা খুব বিপজ্জনক কাজ বলে মনে করছেন মার্কিন সমরবিদরা। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা হারলান উলম্যান এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে বলেছেন, বিধ্বস্ত এফ–১৫ই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের যেকোনো মার্কিন অভিযান হবে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’।
উদ্ধার অভিযানের সম্ভাব্য পদ্ধতি
উলম্যানের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত এই অভিযানে হেলিকপ্টার ও এসি–১৩০ গানশিপ ব্যবহার করে পদাতিক বাহিনী নামাবে। এসব যান খুব নিচু দিয়ে ওড়ে, যার ফলে এগুলো শত্রুপক্ষের আক্রমণের মুখে পড়ার ব্যাপক ঝুঁকি থাকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্ধারকারী দলগুলো অবশ্য এই কাজে বিশ্বের সেরা। নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
পাইলটের অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ
উলম্যান আরও উল্লেখ করেন, বড় প্রশ্ন হলো—পাইলট এখন কী অবস্থায় আছেন? প্যারাস্যুটে নামার সময় তিনি কি আহত হয়েছেন? তাঁর কাছে কি বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত রসদ আছে? আর আমরা কি তাঁকে উদ্ধারের জন্য যথেষ্ট দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারব? সাবেক মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযানে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা কম। বরং এটি হবে একটি ‘ইন অ্যান্ড আউট’ অপারেশন অর্থাৎ দ্রুত গিয়ে দ্রুত ফিরে আসা।
অভিযানের ধাপসমূহ
অভিযানের প্রক্রিয়াটি হবে অনেকটা এমন:
- প্রথমে বিধ্বস্ত পাইলটের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা।
- এরপর সেই এলাকাটিকে চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে শত্রুপক্ষ কাছে আসতে না পারে।
- সবশেষে হেলিকপ্টারে করে দ্রুত পাইলটকে তুলে নিয়ে আসা।
উলম্যান আরও যোগ করেন, এই অভিযান যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। কারণ, ইরান ইতিমধ্যেই ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে এবং ‘একজন মার্কিনিকে জীবিত বন্দী করা তাদের বড় স্বার্থের বিষয়।’ এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।



