ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ব্যর্থ, পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে গেল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের গৃহীত কূটনৈতিক সংলাপ ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এই ব্যর্থতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইসলামাবাদে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে আগ্রহী নন।
ইরানের অগ্রহণযোগ্যতা ও পাকিস্তানের প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়া
এ ছাড়া ইরান জোর দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন যেসব দাবি করেছে তা অগ্রহণযোগ্য। তেহরানের এমন স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তায় পাকিস্তান চলমান যুদ্ধ থামাতে যে চেষ্টা চালালো তা সম্পূর্ণরূপে ভেস্তেই গেলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি দুইটির যৌথ হামলা শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনে গড়ালো। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় নামে পাকিস্তান।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের মুখ্য ভূমিকা ও ব্যর্থতা
এ ছাড়া মধ্যস্থতায় মিসর এবং তুরস্ক যোগ দিলেও মুখ্য ভূমিকায় ছিল পাকিস্তানই। মার্কিন কর্মকর্তাদের আহ্বানে এ ভূমিকায় এসেছিল পাকিস্তান। তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, এই সংলাপের জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। কিন্তু ইরানের অনাগ্রহের কারণে সেই প্রস্তুতিও বৃথা হয়ে গেল।
এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কতটা কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।



