ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলট উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলট উদ্ধারে অভিযান

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, উত্তেজনা তীব্র

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এই ঘটনার পর নিখোঁজ পাইলট ও ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে ইসরায়েল। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

পাইলট উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, ওই পাহাড়ি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মার্কিন ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে অন্তত একজন পাইলট প্যারাসুট নিয়ে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পাঁচ সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হারানোর খবর জানা গেলো, যা এই সংঘাতকে আরও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে বিমানটি গুলি করে নামানো হয়েছে নাকি কারিগরি ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি চ্যানেলে সংবাদ পাঠক স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কোনও ‘শত্রু পাইলট’কে দেখতে পেলে যেন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিনিময়ে পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। কোহকিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই তল্লাশি চলছে। পাশের চাহারমাহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টেলিভিশনে ‘দেখামাত্র গুলি করুন’ বার্তা

টেলিভিশন স্ক্রিনে ‘দেখামাত্র গুলি করুন’ এমন বার্তাও প্রচার করা হয়েছে। একটি পিকআপ ভ্যানের পেছনে কিছু ধাতব ধ্বংসাবশেষের ছবি দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে, এগুলো ওই যুদ্ধবিমানের অংশ। যদিও যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান এমন অনেক দাবি করেছে যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, তবে এই প্রথম তারা টেলিভিশন বার্তার মাধ্যমে জনগণকে পাইলট খুঁজতে সরাসরি নির্দেশ দিল।

অঞ্চলজুড়ে হামলা ও উত্তেজনা

মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের মাঝেই কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে সেখানে ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় তাদের একটি পানি শোধন কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে এবং ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের একটি গ্যাস ক্ষেত্র বন্ধ করে দিয়েছে কারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানে আগুন ধরে গিয়েছিল।

লেবাননেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি স্থল অভিযানের মধ্যেই বৈরুতের কাছে শুক্রবারের নামাজ শেষে বের হওয়া মুসল্লিদের ওপর ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

হতাহত ও অর্থনৈতিক প্রভাব

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থার মতে, বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু মূলত সরকারি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার কারণে ঘটছে, নির্বিচার বোমা বর্ষণে নয়। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আর কিছুটা সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে পারব, তেল দখল করব এবং বড় অঙ্কের ভাগ্য গড়ব।’

শান্তি প্রস্তাব ও জাতিসংঘের আলোচনা

যুদ্ধের এই অচলাবস্থা কাটাতে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ ফরেইন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে, যার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও জারিফ এখন সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক পদে নেই। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত ছাড়া তিনি এমন প্রস্তাব দিতেন না। আগামী শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই সংকট নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।