মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের বক্তব্য: যুদ্ধ সমাপ্তি ট্রাম্পের শর্তে, সামরিক বিকল্প প্রস্তুত
হেগসেথ: যুদ্ধ সমাপ্তি ট্রাম্পের শর্তে, সামরিক বিকল্প প্রস্তুত

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সতর্ক বার্তা: যুদ্ধ সমাপ্তি ট্রাম্পের শর্তে, সামরিক বিকল্প প্রস্তুত

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের এমন একটি সমাপ্তি চায়, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী হবে এবং মার্কিন স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষিত হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পেন্টাগনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্য

হেগসেথ ব্রিফিংয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো একটি চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমাদের কাজ হলো ইরানকে এটা বোঝানো যে, তারা যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছায় তবেই এই বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য তা মঙ্গলজনক হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি, তবে কোনো চুক্তি সম্ভব না হলে আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।'

'বোমা মেরে আলোচনা' কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে হেগসেথ 'বোমা মেরে আলোচনা' হিসেবে অভিহিত করেন। এর অর্থ হলো, আলোচনার টেবিল খোলা রাখলেও সামরিক অভিযান পুরোদমে চলবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যগুলো কখন পূরণ হয়েছে এবং কখন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এককভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামরিক বিকল্প ও রণকৌশল

ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার ওপর ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, 'প্রয়োজন হলে আমরা সব ধরনের সামরিক বিকল্প ব্যবহার করতে পারি, আবার হয়তো করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। আমাদের রণকৌশল হবে অনিশ্চিত, যাতে শত্রু পক্ষ আগে থেকে কিছু বুঝতে না পারে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা

ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, 'সংকটের সময় তারা সাহায্য না করে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোরও উচিত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) রক্ষায় এগিয়ে আসা।' এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, হেগসেথের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।