ইরান অভিযানে নিযুক্ত মার্কিন বিমানবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, গ্রিসের বন্দরে সাময়িক অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেটিকে সাময়িকভাবে গ্রিসের একটি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ১৮তম দিনে মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই বিমানবাহী রণতরি বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান করছিল, তবে দুর্ঘটনার পর তা সৌদা বেতে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজের প্রধান লন্ড্রি অংশে আগুন লাগে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। এই ঘটনায় ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ নাবিককে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঘাতের ফলে একজন সদস্যকে জাহাজ থেকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্টে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এটি পুরোপুরি কার্যক্ষম রয়েছে।
জাহাজটির সামরিক গুরুত্ব ও মোতায়েন ইতিহাস
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রায় ৯ মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং ইরান অভিযানে যাওয়ার আগে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলা অভিযানে অংশ নিয়েছিল। জাহাজটিতে ৭৫টির বেশি সামরিক উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে এফ/এ–১৮ সুপার হর্নেটের মতো যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। জাহাজটির সহায়ক নৌযানগুলোর মধ্যে মিসাইল ক্রুজার নরমান্ডি এবং মিসাইল ধ্বংসকারী টমাস হান্ডার, রামেজ, কার্নে ও রুজভেল্ট রয়েছে, যেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাবমেরিনবিরোধী সক্ষমতা ধারণ করে।
প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তবে পেন্টাগন এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। জাহাজটি সৌদা বেতে কতদিন অবস্থান করবে, তা এখনও অস্পষ্ট রয়েছে। এই ঘটনা দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের সময় নাবিকদের মনোবল ও যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।



