মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কৌশলগত পাল্টা আক্রমণ
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো দাবি করছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হচ্ছে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই ইরানি সশস্ত্রবাহিনী তাদের সামরিক কৌশল বদলে নিচ্ছে। এই পরিবর্তন সংঘাতের গতিপথকে জটিল করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
ইরানের লক্ষ্যবস্তু: মার্কিন দুর্বলতা
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর গত ১১ দিনে ইরান অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেইসব ইন্টারসেপ্টর ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেগুলো এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সম্পদ রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী এমন লক্ষ্যবস্তু বেছে নিচ্ছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বলে মনে করছে, যা তাদের পাল্টা লড়াইয়ের কৌশলকে স্পষ্ট করে তোলে।
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন এমন হোটেলে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা প্রায়ই হামলা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে, এরবিলের এক বিলাসবহুল হোটেলে ইরাকের একটি মিলিশিয়া একঝাঁক ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে পেন্টাগন এই অঞ্চলের হোটেলগুলোতে সেনা রাখছে—এই তথ্য সম্পর্কে ইরান সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিল। তিনি এবং আরও দুই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান, ইরান বুঝে গেছে যে সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে টানা বোমাবর্ষণের মধ্যেও যদি তারা টিকে থাকতে পারে, তাহলে তেহরানের সরকার এটিকেই নিজেদের কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
হতাহতের পরিসংখ্যান ও সংঘাতের প্রভাব
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আহতদের মধ্যে ১০৮ জন আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন, যা মার্কিন সামরিকের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দক্ষতা নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা দাবি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন, যা সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলছে।
এই সংঘাত কেবল সামরিক লড়াইই নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। ইরান তাদের সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে মার্কিন দুর্বলতা শনাক্ত করে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, যা যুদ্ধের ধারাকে পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
