ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম ভাষণে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেবে।
সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ ও প্রতিশোধের প্রত্যয়
মোজতবা খামেনি তাঁর ভাষণে ইরানের সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশ যখন বিভিন্ন আক্রমণের শিকার হয়েছে, তখন এই বাহিনীই ইরানকে পরাধীনতা বা বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। ‘আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের দেশ চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও দুর্দান্ত কাজ করছেন,’ বলেছেন তিনি।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব’। এই মন্তব্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা ও জ্বালানি বাজার প্রভাব
জ্বালানি বাজার নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মোজতবা খামেনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই প্রণালী বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিও তিনি কথা বলেছেন। মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে। ‘ইরান কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এই হামলা অব্যাহত থাকবে,’ বলেছেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। ‘এই ঘাঁটি বন্ধ না করা হলে সেগুলোতে হামলা চালানো হবে,’ এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন নেতা।
জাতীয় ঐক্যের ডাক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
টেলিভিশন ভাষণে মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের উপরও জোর দিয়েছেন। তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও সংহতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দেশ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির এই প্রথম ভাষণ ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
