ইরানের কঠোর হুমকি: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল বন্ধ
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী একটি দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তারা তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার খাতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা সাম্প্রতিক হামলায় জড়িত কোনো দেশকে এই প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রণালি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিটি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের সাহসী নৌবাহিনীর বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনায় এই জলপথে মার্কিন আগ্রাসী শক্তি ও তাদের মিত্রদের চলাচলের কোনো অধিকার নেই বলে দাবি করা হয়েছে। ইরান আগেও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
বিশ্বের তেল পরিবহনের ২০% এই প্রণালির মাধ্যমে
হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০% তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাবকে বিশাল করে তুলেছে। ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পদক্ষেপ
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই প্রণালিতে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে।
জাবেল আলি বন্দরে কনটেইনার জাহাজে আঘাত
অন্যদিকে, ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন থেকে জানানো হয়েছে, জাবেল আলি বন্দরের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে একটি কনটেইনার জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তবে সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষতি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইরানের সামরিক বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং সাম্প্রতিক জাহাজ আঘাতের ঘটনা একত্রে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
