ইরানের স্কুলে হামলায় ১৭০ শিশু নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জড়িত থাকার প্রমাণ জোরালো
ইরানের স্কুলে হামলা: ১৭০ শিশু নিহত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জড়িত

ইরানের স্কুলে হামলায় ১৭০ শিশু নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জড়িত থাকার প্রমাণ জোরালো

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরে অবস্থিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই স্কুলছাত্রী। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হামলাটি সংঘটিত হয়, যখন ক্লাস চলছিল এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্যালয় ভবনে আঘাত হানে।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

শাজারেহ তাইয়্যেবা নামের এই বালিকা বিদ্যালয়টি ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের একটি ঘাঁটির নিকটে। হামলার ফলে দোতলা ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর ছাদ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে প্রায় সবাই শিশু, এছাড়াও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। স্কুলটি হরমুজ প্রণালীর ওপর নজর রাখা একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে আইআরজিসির একাধিক নৌ-ঘাঁটি রয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

ইরান এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, নিরপরাধ শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে এবং এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই ঘটনাকে জঘন্য অপরাধ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, হামলাটি একটি 'ডাবল-ট্যাপ' পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে প্রথম হামলার পর উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশই এই হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে হামলার জন্য ইরান নিজেই দায়ী হতে পারে, কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হেনেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন যে তাদের তদন্তে স্কুল হামলার সাথে ইসরাইলি বাহিনীর কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, স্কুলটি একসময় সামরিক ঘাঁটির অংশ ছিল এবং কয়েক বছর আগে এটি পৃথক করা হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করেনি, যা এই ভুলের কারণ হতে পারে। এই ঘটনা মার্কিন বাহিনীর বেসামরিক হতাহতের দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন ১৯৯৯ সালে চীনা দূতাবাসে হামলা এবং ১৯৯১ সালে আমিরিয়াহ বাঙ্কার হামলা, যেখানে শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞ মার্ক কানসিয়ান উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিশ্চিত হয়, তবে এটি সামরিক বাহিনীর জন্য লজ্জাজনক হবে এবং যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়িয়ে দেবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একটি চিঠিতে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। কানসিয়ান মন্তব্য করেন, দায় স্বীকার করলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সমর্থনের কারণে। তদন্ত এখনও চলমান থাকলেও এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।