ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট নিয়ে প্যারিস বৈঠকে জেলেনস্কি-ম্যাক্রঁ, শান্তি আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা চাপ বাড়ানোর কৌশল
জেলেনস্কি-ম্যাক্রঁ বৈঠকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর কৌশল

ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে জেলেনস্কি-ম্যাক্রঁর প্যারিস বৈঠক: শান্তি আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা চাপ বাড়ানোর কৌশল

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্সি থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

নিষেধাজ্ঞা চাপ বাড়ানো ও শান্তি প্রক্রিয়া

ফরাসি প্রেসিডেন্সির বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাক্রঁ ও জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাপ বাড়ানোর দিকে কেন্দ্রীভূত হবে। বিশেষ করে, ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিট' ট্যাঙ্কারগুলোর লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এছাড়াও, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হবে বলে ম্যাক্রঁর অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

কেমলিনের প্রতিক্রিয়া ও শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা

রাশিয়ার কেমলিন এই পরিকল্পিত বৈঠককে শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কেমলিনের মতে, 'রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের ধারণাটাই অযৌক্তিক'। এই মন্তব্য বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও ত্রিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন যে তিনি 'নির্দিষ্ট তেল-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলো মওকুফ করবেন'। যদিও তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি, তবে এই মন্তব্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ফোনালাপের পর এসেছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে নতুন ত্রিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে আগামী সপ্তাহে। জেলেনস্কির মতে, এই আলোচনা সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

জেলেনস্কির ইউরোপীয় সফর

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্যারিস বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার রোমানিয়ায় পৌঁছেছেন। তার ইউরোপীয় সফরের অংশ হিসেবে তিনি স্পেন সফরও করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরগুলো আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই বৈঠকটি ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন মোড় নির্ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন প্যারিসে এই আলোচনার ফলাফলের দিকে।