ট্রাম্পের হুমকি: স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের সম্ভাবনা
ট্রাম্পের হুমকি: স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির পেছনে মূল কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া। বুধবার (১১ মার্চ) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ন্যাটোর সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ

ট্রাম্প স্পেনের বিরুদ্ধে ন্যাটোর সঙ্গে অসহযোগিতার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমার মনে হয় তারা (স্পেন) মোটেও সহযোগিতা করছে না। তারা খুবই খারাপ আচরণ করছে যা মোটেও ভালো নয়। আমরা স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারি।’ তার মতে, স্পেন ন্যাটোর নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করলেও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা পিছিয়ে থাকে এবং তারা তাদের ‘ন্যায্য হিস্যা’ দিতে চায় না।

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সামরিক অভিযানকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসঙ্গে, তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে দক্ষিণ স্পেনের যৌথ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতেও তারা স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি

ট্রাম্প ন্যাটোর নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ ব্যয় না করায় স্পেনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি, তিনি দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্পেনের প্রতিক্রিয়া

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় আছে। তিনি এই উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই হুমকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

মিডল ইস্ট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই ইস্যুটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে যদি না উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।