ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আলোচনা: যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে রাশিয়া-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আলোচনা: যুদ্ধ বন্ধের উপায়

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আলোচনা: যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে রাশিয়া-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাই এই সংঘাত থামানোর একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও হামলার প্রেক্ষাপট

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে।

মার্কিন সুবিধার ওপর ইরানি হামলার প্রভাব

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক, কূটনৈতিক ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিই সামরিক ঘাঁটি। কাতারের উম্ম দাহালের কাছে অবস্থিত ১১০ কোটি ডলার মূল্যের একটি আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার এবং শক্তিশালী থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট সদর দপ্তরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে জানানো হয়েছে। ইরানি হামলায় দুবাই, কুয়েত সিটি ও রিয়াদে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে, যদিও এসব হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যতটা ভেবেছিল, ইরান তার চেয়েও বেশি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।

ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি

যুদ্ধের ১২তম দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও ব্যাংকগুলোতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দুবাই থেকে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে। বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডারের উপদেষ্টা আলী ফাদাভি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কার কথা মাথায় রাখতে হবে, যা মার্কিন অর্থনীতিসহ বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সতর্কতা উপেক্ষা করে প্রবেশের দায়ে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি ইসরায়েলকে নির্মূল করার দীর্ঘদিনের হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে।