ইরানের স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের দায় স্বীকার
ইরানের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে তিনি উল্টো ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সরাসরি দায়ী।
তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল ও ভুলের বিবরণ
তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত মিনাব শহরের ওই বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত ভুল। বিদ্যালয় ভবনের পাশেই একটি ইরানি ঘাঁটি অবস্থিত ছিল, যেখানে হামলা চালানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয় ভবনটি আগে ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল বলে জানা গেছে। তদন্তের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন, যা একটি গুরুতর ভুল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
হামলার ভয়াবহতা ও প্রভাব
শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সামরিক ভুল হিসেবে নথিবদ্ধ হতে যাচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৭৫ জন, যাদের প্রায় সবাই শিশু শিক্ষার্থী। নিহত শিক্ষার্থীদের দাফন করতে পাশাপাশি অনেকগুলো কবর খোঁড়া হয়, যা ঘটনার মর্মান্তিকতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পুরো তদন্তের এই ফলাফল বহুলাংশে প্রত্যাশিত ছিল, কারণ চলমান সংঘাতের পক্ষগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। তবে এই ঘটনা ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের ওপর ইতিমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তদন্তের অসমাপ্ত দিক ও প্রশ্ন
কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তদন্তের এই ফলাফল প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিশেষ করে, কেন ওই পুরোনো তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। এই ত্রুটির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নীতিমালায় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
