ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর দাবি: মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ১৩ সেনা নিহত, শতাধিক অভিযান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত স্বশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক দাবি করেছে, তারা গত ১২ দিনে ২৯১টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলার বিস্তারিত ও আহতদের অবস্থা
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে ইরাক ও এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে কয়েক ডজন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরাকের উত্তর বসরা প্রদেশে মার্কিন বাহিনীর একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ ব্যবহার করে নামিয়ে আনা হয়েছে।
পটভূমি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা ও ইরানের পাল্টা আঘাত
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে। এর আট মাস আগেও তারা দেশটির ওপর উস্কানিমূলক হামলা চালিয়েছিল। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকশ নারী ও শিশুসহ ১২০০-এরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান দ্রুত ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বৃষ্টি বর্ষণ করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে, ইরানের পাল্টা হামলায় সাত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে, যদিও তেহরান দাবি করেছে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা
ইরাকি গোষ্ঠীটি ইরানবিরোধী আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বশক্তিগুলো মুক্ত মানুষের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিয়ে জাতিগুলোর মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে দমন করার চেষ্টা করছে।’ গোষ্ঠীটি যোগ করেছে, ‘জায়নিস্ট এবং আমেরিকান শত্রু’ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের মিত্রদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারী যেকোনো দেশকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরাকসহ এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও স্বার্থগুলো প্রতিশোধমূলক হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই হুমকি আঞ্চলিক সংঘাত আরও প্রসারিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও উত্তেজনার ধারা
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরাক ও সংলগ্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের মতো গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এবং তাদের দাবিকৃত হামলাগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
সূত্র হিসেবে প্রেস টিভির প্রতিবেদন উদ্ধৃত হয়েছে, যা ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলো তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে এবং অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে।
