হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান তখনই সমাপ্ত হবে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করবেন যে, সামরিক লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে।
লেভিটের বক্তব্যে যুদ্ধ সমাপ্তির শর্ত
লেভিট বলেন, ‘যখন কমান্ডার-ইন-চিফ সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে এবং ইরান সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের অবস্থায় পৌঁছেছে—তখনই এই অভিযান শেষ হবে, তারা সেটা বলুক বা না বলুক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সামরিক অভিযান পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ও অগ্রগতি
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লেভিট জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং আমাদের সাহসী যোদ্ধারা খুব দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করছে এবং তা নির্ধারিত সময়ের আগেই এগোচ্ছে।’ অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেগুলো তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
- ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা।
- স্থায়ীভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করা।
- অঞ্চলে তাদের সন্ত্রাসী মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করা।
হামলার পটভূমি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এবং পারস্য উপসাগর ও এর বাইরের এলাকাতেও তাদের নৌবাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছে। এই হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর জবাবে ইরান ইসরাইল অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তারা উপসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য এবং ককেশাস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে।
এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



