ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা: তেহরানে বিমান হামলা, উত্তেজনা চরমে
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, তেহরানে বিমান আক্রমণ

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা: তেহরানে বিমান আক্রমণ, উত্তেজনা চরমে

তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আজাদি টাওয়ারের কাছে বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা চলমান সংঘাতের একটি তীব্র পর্যায় নির্দেশ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এবং ইরানের স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল মঙ্গলবারের হামলাকে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে তীব্র হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা গতকাল কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভোরে বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও একটি হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ভোরে ইরান থেকে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথাও বলা হয়েছে।

ইসরায়েলে হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ইসরায়েলে আঘাত হানছে ইরানের গুচ্ছ বোমা, এবং ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে রকেটগুলো প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় বিমান হামলাজনিত সতর্কসংকেত বাজতে থাকলে ইসরায়েলিরা নিরাপদ কক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে যান। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র মাটিতে পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় একই সময়ে লেবাননের বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যা লেবাননে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। হিজবুল্লাহ ইরান সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও প্রতিক্রিয়া

গতকাল হোয়াইট হাউস আবারও বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরানে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। যুদ্ধের কারণে এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের পরিবহন কার্যত থমকে গেছে। এ ছাড়া হোয়াইট হাউস আবারও ঘোষণা দিয়েছে, কেউ চাইলে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে পার করে দেবে। গতকাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ‘আজও ইরানের ভেতরে আমাদের সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন হবে। সবচেয়ে বেশি যোদ্ধা, সবচেয়ে বেশি বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে, সবচেয়ে বেশি হামলা হবে, গোয়েন্দা তথ্য আরও নিখুঁত ও আগের চেয়ে ভালো হবে।’

ট্রাম্পের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

দিনের শেষ দিকে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা ইরানের ১০টি “নিষ্ক্রিয় মাইন” বসানো জাহাজকে আঘাত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছি।’ এ হামলাগুলো কোথায় হয়েছে, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেহরানের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাঁরাও বলেছেন, গতকাল রাত ছিল চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র হামলার রাত। এক বাসিন্দা ফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘এটিকে নারকীয় মনে হচ্ছিল। তারা তেহরানের সব জায়গায় বোমা ছুড়ছিল।’ নিরাপত্তার কারণে ওই বাসিন্দা তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার সন্তানেরা এখন ঘুমাতে ভয় পাচ্ছে।’

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি দূত আমির সাইদ ইরাবানি বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরাবানি আরও বলেন, হামলায় প্রায় আট হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬০০টি ‘বাণিজ্যিক ও সেবাকেন্দ্র’ এবং বেশ কয়েকটি চিকিৎসা, শিক্ষা ও জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি করছে এবং শান্তি প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।