হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসালে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন করলে ইরানকে সামরিকভাবে নজিরবিহীন পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই হুমকি আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের পর, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো শুরু করেছে।
ট্রাম্পের পোস্টে হুমকি ও শর্ত
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত এমন কোনো খবর পাননি যে ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান যদি সত্যিই সেখানে ভাসমান বিস্ফোরক মাইন বসিয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো ‘অবিলম্বে’ সরিয়ে ফেলতে হবে। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি কোনো কারণে সেখানে মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং তা অবিলম্বে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রায় সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’
তিনি এও যোগ করেন, ‘যদি মাইন বসিয়েও থাকে, তাহলে সেগুলো যদি তারা সরিয়ে নেয়, তখন বুঝব যে তারা সঠিক পথে থেকে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরান যদি মাইন সরিয়ে নেয়, তাহলে উত্তেজনা কমতে পারে, কিন্তু তা না করলে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ অনিবার্য হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়, যা হরমুজ প্রণালিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত করে তুলেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো উপসাগরীয় দেশের তেল পার হতে দেওয়া হবে না, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
ট্রাম্পের অতীত বক্তব্য ও মার্কিন অবস্থান
গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার জলসীমায় কথিত মাদক পাচারের নৌকা ধ্বংস করতে আগে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো যেকোনো নৌকাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে লিখেছেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সতর্ক থাকো।’
এর আগে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে পার করেছে। তবে পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয় এবং গতকাল হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিয়ে পার করায়নি। এই অসামঞ্জস্য মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি বা কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
এই হুমকি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং বৈশ্বিক তেল বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে। ইতিমধ্যে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে খবর রয়েছে, যা এই হুমকির পেছনে রাজনৈতিক চাপের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কূটনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে নাকি সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেবে, তা এখন সবার নজরে।



