ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি: ইরানের হামলায় গুচ্ছবোমার ব্যবহার
ইসরায়েলের দাবি: ইরানের হামলায় গুচ্ছবোমা ব্যবহৃত

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি: ইরানের হামলায় গুচ্ছবোমার ব্যবহার

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাম্প্রতিক এক বিশেষ মূল্যায়নে দাবি করেছে যে, ইরান ইসরায়েলে চালানো হামলায় তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক অংশেই গুচ্ছবোমা বা ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের ময়দানে বিধ্বংসী ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে।

গুচ্ছবোমার কার্যপ্রণালী ও বিপদ

আইডিএফের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ ওয়ারহেডগুলো লক্ষ্যবস্তুর আকাশে পৌঁছানোর পর কয়েক ডজন ক্ষুদ্র সাব-মিউনিশনে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় কয়েক কেজি করে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক থাকে, যা প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে সক্ষম। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং।

যদিও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কার্যকর, তবে আইডিএফ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে কোনো ব্যবস্থাই পুরোপুরি নিচ্ছিদ্র নয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করলেও এর ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র বোমাগুলো নিচে পড়ে বড় ধরনের বিপদ ঘটাতে পারে।

লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি

আইডিএফের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরান কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। গত সোমবার মধ্য ইসরায়েলের একটি নির্মাণাধীন এলাকায় ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং আরও কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের কৌশলগত পরিবর্তন

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে একযোগে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়ে অল্প সংখ্যক কিন্তু শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে তেহরান কিছুটা সমস্যার মুখে থাকলেও গুচ্ছবোমার মাধ্যমে তারা সীমিত হামলাতেই সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুচ্ছবোমার মতো প্রযুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।