ইসরাইলে একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নতুন নেতার পর প্রতিশোধ তীব্র
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পর প্রতিশোধমূলক হামলা জোরদার করেছে তেহরান। আগের চেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) নতুন করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবে আঘাত হানছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই হামলাগুলো ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বেইত শেমেসে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় ইরানের প্রকাণ্ড ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলীয় বেইত শেমেস এলাকায় আঘাত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবর শনাক্ত করার পরপরই বেশ কিছু ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বেইত শেমেস এলাকায় বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ডেইলি টাইমস অব ইসরাইল জানায়, চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যালিস্টিক মিসাইল ছিল, যা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বলে বিবেচিত হয়। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ইরানের নতুন হুমকি
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা এখন থেকে ইসরাইলে যত মিসাইল ছুড়বে সেগুলো কোনোটিই এক টনের কম ওজনের হবে না। এই ঘোষণা ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের তীব্রতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নেতার অধীনে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এই হামলাগুলোর পটভূমিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে আরও বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সূত্র হিসেবে আলজাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ঘটনার বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করে।
