ইরানের ওপর আসন্ন 'সবচেয়ে তীব্র' হামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং আজকের দিনে সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন, যা বার্তাসংস্থা এএফপি-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে।
সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের ব্যবহার
হেগসেথ উল্লেখ করেছেন যে আসন্ন হামলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে, যা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
'যুদ্ধ কতদিন চলবে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এটা যুদ্ধের শুরু, মাঝামাঝি নাকি শেষ— এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার কাজ নয়,' বলেছেন হেগসেথ। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হতে পারে, কিন্তু তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেন যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের লঞ্চারগুলো স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক এলাকায় স্থাপন করছে, যাতে সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই কৌশল বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলার মাত্রা কমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান তাদের সক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা সম্ভবত মার্কিন চাপের ফলাফল।
ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন যে চলমান অভিযানের একটি প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা দুর্বল করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সমুদ্রপথে মাইন ব্যবহার করে যাতে ইরান জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
এই সামরিক পদক্ষেপগুলি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেগসেথের এই ঘোষণা পরিস্থিতির গতি-প্রকৃতি বোঝাতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
