ইরানের হামলায় ইসরাইলে নিহত ১, গুরুতর আহত ২: ক্লাস্টার বোমার আঘাতে ধ্বংসযজ্ঞ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্য প্রাচ্যের পরিস্থিতি। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) ইরানের হামলায় ইসরাইলে একজন নাগরিক নিহত এবং অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই হামলায় ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে।
ক্লাস্টার বোমার আঘাতে নিহত ও আহতের বিস্তারিত
সোমবার মধ্য ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত একজন নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) এর তথ্য অনুযায়ী, ইহুদ শহরের একটি নির্মাণাধীন স্থানে ৪০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি স্প্লিন্টারের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। তাদের মধ্যে একজন পরে মারা যান এবং দ্বিতীয় ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওর ইয়েহুদায় তৃতীয় এক ব্যক্তিও গুরুতর আহত হয়েছেন।
চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, ইহুদ শহরের নির্মাণাধীন স্থানে একজন নিহত ও অন্য একজন আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতি
এই ক্লাস্টার ওয়ার হেডটি মধ্য ইসরাইলের ইহুদ, ওর ইয়েহুদা, হলোন, বাত ইয়ামসহ অন্তত ছয়টি স্থানে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলের ছবিতে মাটিতে গর্ত এবং বিস্ফোরণে যানবাহন ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। চলমান সংঘাতের সময় ইরান ইসরাইলে ক্লাস্টার বোমা বহনকারী একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের এই উপর্যুপরি হামলাগুলো দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। একই সময়ে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী উত্তর ইসরাইলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
অন্যান্য হামলা ও আহতের খবর
ভোরবেলার এক হামলায় রিশন লেজিয়ন শহরে এক নারী মাঝারিভাবে আহত হন। এলাকাটিতে পড়া একটি ক্লাস্টার বোমার অংশের আঘাতে পাথরের টুকরো ছিটকে এসে ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর মাথায় লাগে। এমডিএ প্যারামেডিকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় শামির মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে জানিয়েছে যে তার অবস্থা বর্তমানে ভালো। আঘাতের সময় তিনি কোনো বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে (শেল্টার) ছিলেন না।
তেহরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় মধ্যরাতের পর থেকে এটি ছিল সপ্তম দফার হামলা। বিকেলে ইরান অষ্টম দফার হামলা চালায়।
পটভূমি ও উত্তেজনার কারণ
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘটনার পর থেকে ইরান কঠোর ভাষায় জবাব দিয়ে আসছে। ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেছে এবং দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে মধ্য প্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


