ইরানের মার্কিন সেনা আটকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বলছে 'মিথ্যা'
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে আটক করার দাবি করেছে, তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি 'মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
লারিজানির অভিযোগ ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
লারিজানি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, 'বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করা হয়েছে, কিন্তু ওয়াশিংটন এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।' তিনি আরও অভিযোগ করেন যে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে ওই সেনারা সরাসরি যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, কিন্তু আসলে তারা বন্দি অবস্থায় আছেন। সত্য খুব বেশিদিন গোপন রাখা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইরানের এই দাবির পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'কোনো মার্কিন সেনা আটক হওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।' তিনি ইরানের এই দাবিকে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর 'মিথ্যাচার ও প্রতারণার' আরও একটি উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
পটভূমি: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্কুলছাত্রীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
এই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্ররা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে নতুন এই দাবি ও প্রত্যাখ্যান আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, যেখানে তথ্য যুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত ও স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের অবস্থানকে জোরদার করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



