বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলা বাহরাইনের জুফায়র এলাকায় অবস্থিত ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পূর্ববর্তী হামলার প্রত্যক্ষ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
প্রতিশোধমূলক হামলার কারণ
আইআরজিসি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পানির প্ল্যান্টে মার্কিন হামলার জবাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পূর্বে জানিয়েছিলেন, ওই মার্কিন হামলার ফলে প্রায় ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। এই ঘটনাটি ইরানের জন্য একটি গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাহরাইনের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় জরুরি সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
পটভূমি: সম্প্রতিক সংঘাতের ইতিহাস
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বাহিনী ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য কৌশলগত স্থানগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জরুরি আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
