ট্রাম্পের দাবি: মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এই হামলাগুলো ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করেছে। ফ্লোরিডায় শনিবার (৭ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার বিস্তারিত দাবি
ট্রাম্প দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানের ৪২টি নৌযান ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, দেশটির বিমানবাহিনীর সক্ষমতা এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বড় অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, ওই হামলার আগে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অসাধারণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। তিনি এই সাফল্যকে মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলের হামলা সম্পর্কিত দাবি
আল জাজিরার অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালিয়ে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাতভর তেহরানজুড়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয় এবং ১৬টি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে যে, বিমানবন্দরটি পরিচালনা করতো কুদস ফোর্স। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে বিমানবন্দরটি ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে, এই দাবিগুলি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাগুলো ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও, এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং ইসরায়েলের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক এই হামলাগুলোর বৈধতা ও পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভবিষ্যতে এই সংঘাতের আরও বৃদ্ধি বা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
