ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ১৬টি উড়োজাহাজ ধ্বংস
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিমানবন্দরে ১৬ উড়োজাহাজ ধ্বংস

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শুক্রবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের ব্যবহৃত ১৬টি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

হামলার উদ্দেশ্য ও ইসরায়েলের দাবি

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মেহরাবাদ বিমানবন্দরকে কুদস ফোর্স মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অস্ত্র ও নগদ অর্থ বোঝাই উড়োজাহাজগুলো এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত উড্ডয়ন করত এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবতরণ করত।

ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস করা ১৬টি উড়োজাহাজ হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো এবং ইরানের বেশ কিছু যুদ্ধবিমানও এই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর মতে, এসব ইরানি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় অভিযান চালানো ইসরায়েলি বিমানগুলোর জন্য ক্রমাগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা এই হামলার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ইরানের সম্ভাব্য জবাবি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ইসরায়েলি হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন আঞ্চলিক শক্তি গুলোর মধ্যে সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠছে এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এরূপ হামলা পারস্পরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হচ্ছে।