ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ইরানি বিদ্রোহীদের স্থল অভিযানের সম্ভাবনা, আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ইরানি বিদ্রোহীদের স্থল অভিযানের সম্ভাবনা

ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ইরানি বিদ্রোহীদের স্থল অভিযানের সম্ভাবনা, আইআরজিসি হামলা চালিয়েছে

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া ইরানি কুর্দি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর এক নেতা বলেছেন, ইরানি কুর্দিরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান চালানোর ‘প্রবল’ সম্ভাবনা রয়েছে। ‘খাবাত অর্গানাইজেশন অব ইরানি কুর্দিস্তান’-এর সাধারণ সম্পাদক বাবাশেখ হোসেইনি গতকাল শুক্রবার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে’ কোনো অভিযান চলছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাঁরা স্থল সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন।

কুর্দি নেতার বক্তব্য ও পরিকল্পনা

কুর্দি অঞ্চল থেকে হোসেইনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করছি। এখন পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে। তাই অভিযানের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। তবে স্থল অভিযান নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’ বিদ্রোহী এই নেতা উপসংহারে বলেন, মার্কিন নাগরিকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং এখন পর্যন্ত সরাসরি দেখা না হলেও তারা যোগাযোগ রেখেছে।

ইরানের আইআরজিসির হামলা ও হুমকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দেওয়ার সঙ্গে ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আজ শনিবার জানিয়েছে, তারা কুর্দি অঞ্চলের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে’ নিশানা করেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ সকালে ইরাকি (কুর্দিস্তান) অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তিনটি অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। যদি এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা তাদের গুঁড়িয়ে দেবে।

ইরাক ও কুর্দি সরকারের প্রতিক্রিয়া

বিদ্রোহী কুর্দিরা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে—এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল ইরাক সরকার ও কুর্দি আঞ্চলিক সরকার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশীদের ওপর হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আইআরজিসি এ হামলা চালায়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ও কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি টেলিফোনে আলাপ করে সম্মত হয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার জন্য ইরাকি ভূখণ্ডকে লঞ্চিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও হামলার ঘটনা

তেহরান শুক্রবার হুমকি দিয়েছিল, যদি নির্বাসিত ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তারা ওই অঞ্চলের ‘সব স্থাপনা’ নিশানা করে হামলা চালাবে। ইসরায়েল ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের সহায়তা করা যায়—এমনটি রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, তারা (কুর্দিরা) সীমান্ত পার হলে সেটি হবে ‘চমৎকার’ একটি বিষয় এবং তিনি এর পূর্ণ সমর্থন দেবেন।

আইআরজিসির এই বিবৃতি এমন সময়ে এল, যখন শুক্রবার ইরাকের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সেনারা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, এরবিলের ‘আর্জান বাই রোটানা’ হোটেলেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। শুক্রবার গভীর রাতে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

দক্ষিণ ইরাকের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা: ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা প্রদেশে বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর একটি তেল স্থাপনায় দুবার হামলা হয়েছে। বসরার একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘বুর্জেশিয়া তেল কমপ্লেক্সের ওপর দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও তৃতীয় একটি ড্রোন লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয় এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।’ বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো কুর্দি অঞ্চলের সেই সব হোটেলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যেখানে বিদেশিরা যাতায়াত করেন।