পারস্য উপসাগরে ইরানের ড্রোন হামলা: দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আক্রান্ত
পারস্য উপসাগরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্শাল আইল্যান্ডস ও মাল্টার পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লুইস পি নামের মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ‘সন্ত্রাসী আমেরিকার’ অন্যতম সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের মাঝপথে আইআরজিসির ড্রোন থেকে ছোড়া গোলা সরাসরি ওই জাহাজে আঘাত হেনেছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
একই দিনে, হরমুজ প্রণালির কাছে প্রিমা নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিক-এর তথ্য মতে, আক্রান্ত প্রিমা জাহাজটি অপরিশোধিত তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনকারী একটি ট্যাংকার এবং এটি ইউরোপীয় দেশ মাল্টার পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত ছিল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
এদিকে ব্রিটিশ মেরিটাইম সেফটি অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের জুবাইল শহর থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি সামুদ্রিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল এখন চরম ঝুঁকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।
