ইরানের নতুন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে ইরান। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এই ঘটনার পর।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের বিশাল শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
দুবাই বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ ও উত্তেজনা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। হামলার সাইরেন বাজার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের তড়িঘড়ি করে রানওয়ের নিচের ট্রেন টানেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের ভেতরে একটি বিস্ফোরণের চিত্র দেখা গেছে, যা স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর দীর্ঘপাল্লার এয়ারলাইনস এমিরেটস শুরুতে তাদের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কথা জানায় সংস্থাটি, যা যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
ইসরায়েলেও হামলা চালিয়েছে ইরান
উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলেও জোরালো আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। গত মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত ছয় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ক্ষমা চাওয়া ও হামলার সমন্বয়হীনতা
এর আগে সকালেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভাষণে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না হলে ইরান আর আক্রমণ করবে না। কিন্তু তার এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা তেহরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
