ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ৬,৬৬৮ বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে অন্তত ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা বা ইউনিটকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চালানো এসব হামলার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক সংকটের নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার বিস্তারিত তালিকা
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ধ্বংস হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বেসামরিক ইউনিটগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুসারে, হামলার শিকার হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আবাসিক ভবন: ৫ হাজার ৫৩৫টি, যা বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: ১ হাজার ৪১টি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ৬৫টি, যুদ্ধের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।
- চিকিৎসা কেন্দ্র: ১৪টি, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করছে।
- রেড ক্রিসেন্ট সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র: ১৩টি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও হামলা চালানো হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দল ও কর্মীদের উপর প্রভাব
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আরও জানিয়েছে, এই হামলাগুলোর সময় বেশ কিছু উদ্ধারকারী এবং ত্রাণবাহী যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জরুরি সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া, উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনা ও চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলা নিষিদ্ধ হলেও, যুদ্ধের শুরু থেকেই এসব স্থাপনা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তেহরানের। এই পরিস্থিতি যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করছে, এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



