ইরানের ড্রোন হামলায় মাল্টার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার 'প্রিমা' ক্ষতিগ্রস্ত
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটে অবস্থানকালে 'প্রিমা' নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি'র দাবি: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় হামলা
আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে নৌ-চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং এই জলপথটি অত্যন্ত অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত। আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বারবার সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করা সত্ত্বেও ওই ট্যাংকারটি তা উপেক্ষা করে সক্রিয়ভাবে চলাচল করছিল। নৌবাহিনীর কঠোর নির্দেশনা সরাসরি অমান্য করায় 'অপরাধী' হিসেবে চিহ্নিত ওই ট্যাংকারটির ওপর লক্ষ্যবস্তু করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
'প্রিমা' ট্যাংকারের পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতি
জাহাজ চলাচলের তথ্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিক-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত 'প্রিমা' জাহাজটি মূলত অপরিশোধিত তেল ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য পরিবহনকারী একটি বড় আকারের ট্যাংকার। এটি ইউরোপীয় দেশ মাল্টার পতাকাবাহী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। হামলার পর ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং সম্ভাব্য মানবিক ক্ষতি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জলপথ
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অপ্রকাশ্য যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল জলপথে পরিণত হয়েছে। তেহরান ইতিমধ্যেই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিল যে তারা এই পথে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্রদের কোনও জাহাজ চলাচল করতে দেবে না, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়, তাই যেকোনো বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
