ইরান ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লীগ
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে বিভিন্ন আরব দেশের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার ঘটনা নিয়ে জরুরি আলোচনায় বসছে আরব লীগ। আগামীকাল রোববার (৮ মার্চ) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নেবেন সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বৈঠকের আহ্বান ও প্রেক্ষাপট
আরব লীগের সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান এবং মিশর এই জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। এই বৈঠকের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সংলাপের ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সামরিক উত্তেজনা।
সাম্প্রতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতা
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইলও।
হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা আরব লীগের এই জরুরি বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরব লীগের ভূমিকা ও সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়
আরব লীগের এই জরুরি বৈঠকে ইরানের হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা যাচাই করবেন। এছাড়াও, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আরব বিশ্বের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করাও এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বৈঠকের ফলাফল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরব লীগের সিদ্ধান্তসমূহ ভবিষ্যতে আরব দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
