হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা নেই, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু

হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই মুখপাত্রের এমন বক্তব্য প্রচার করেছে। তবে নাম প্রকাশ না করা ইরানের ওই মুখপাত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা না হলেও সেখান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ চলাচল করতে গেলে সেগুলোকে নিশানা বানানো হবে।

ইরানের মুখপাত্রের সতর্কবার্তা

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, 'আমরা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক কোনো জাহাজকে বাধা দেব না। তবে এর নিরাপত্তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজকে নিতে হবে।' তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, 'জায়নবাদী সত্ত্বা (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে গেলে সেটাকে নিশানা করা হবে'—এমন ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের ওই মুখপাত্র।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি

আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল) দীর্ঘ। পারস্য সাগর আর ওমান সাগরের মধ্য সংযোগ তৈরি করেছে এই প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানির এক–ষষ্ঠাংশ এবং এলএনজির এক–তৃতীয়াংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ আগ্রাসন এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের কারণে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে।

জাহাজ চলাচলের হ্রাস ও আটকে পড়া ট্যাংকার

বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের তথ্য পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান ভোরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৪টি জাহাজ চলাচল করত। তবে সংঘাত শুরুর পর ১ মার্চ এ সংখ্যা মাত্র ৪-এ নেমে এসেছে। ভোরটেক্সা ও জাহাজ ট্র্যাকার কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছে।

ইরানের পূর্ববর্তী ও বর্তমান অবস্থান

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান সরকার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশ বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে ওই বিবৃতিতে চীনের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এখন নতুন করে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।