ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ক্ষমতায় ইসরায়েলকে ২০ হাজারের বেশি বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ক্ষমতায় ইসরায়েলকে ২০ হাজারের বেশি বোমা সরবরাহ

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি অস্ত্র সরবরাহ সিদ্ধান্ত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরায়েলের কাছে বিশাল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা ও অস্ত্রের বিবরণ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন, যাতে ইসরায়েলের কাছে দ্রুত অস্ত্র বিক্রি করা যায়। এই অস্ত্র চুক্তির অংশ হিসেবে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের ১২ হাজার ভারী বোমা সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও, আরও ১০ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বোমা এবং ৫ হাজার ছোট আকারের ‘স্মল ডায়ামিটার’ বোমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেবা ও সরঞ্জামসহ এসব অস্ত্রের মোট মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা। এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি অস্ত্র সরবরাহ ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র সরবরাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।