ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা অষ্টম দিনে, ট্রাম্পের যুদ্ধ অব্যাহত ঘোষণা
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। দেশ দুইটি যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।
মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর ইরানে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুক্রবার সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনা, আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার, সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ও নেতাদের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করছে। দেশটিতে প্রথম দফায় চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অন্তত ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এদিকে বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রধান বিমানবন্দরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এটি তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কমেছে
এর আগে শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন বলছেন, গত শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্ট-কম বলছে, মঙ্গলবার ওই সংখ্যাটা আরও ২৩ শতাংশ কমেছে। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হামলার ফলে ইরানের সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং শান্তি প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘায়িত পরিস্থিতি ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
