ভারতের আসামে সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, দুই পাইলট নিহত
ভারতের আসাম রাজ্যে একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে, যাতে বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর। ভারতীয় বিমানবাহিনী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি একটি রুটিন প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল। এটি বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে আসামের যোরহাট বিমানবাহিনী স্টেশন থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পরপরই বিমানটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই বিমানবাহিনী তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
বিমানটি যোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বোকা জান মহকুমার বাসিন্দারা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার তীব্র শব্দ শুনতে পান, যা দুর্ঘটনার স্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
বিমান সম্পর্কিত তথ্য
এসইউ-৩০ এমকেআই একটি দুই আসনবিশিষ্ট দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান, যা রাশিয়ার বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা সুখোই তৈরি করেছে। এই বিমানটি সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে ভারতের সরকারি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল) ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এই বিমানটি তৈরি করছে।
বিমানবাহিনীর প্রতিক্রিয়া
ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'সুখোই-৩০ দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকরের মৃত্যুতে ভারতীয় বিমানবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করছে। বিমানবাহিনীর সব সদস্য নিহত দুজনের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন এবং এই শোকের সময়ে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।'
এই দুর্ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে নিরাপত্তা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, বিশেষত প্রশিক্ষণ মিশনগুলোর তদারকি নিয়ে। বিমানবাহিনী এখন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
