ইরানে মার্কিন বি-২ বোম্বারের ব্যাপক হামলা: ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে ২,০০০ পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার
ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার এবং নৌবাহিনীর ওপর হামলা আরও জোরদার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোম্বার থেকে ইরানের অভ্যন্তরে লুকানো ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুত রাখা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কয়েক ডজন ২,০০০ পাউন্ডের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত ৭২ ঘণ্টায় ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত
গত ৭২ ঘণ্টায় রাজধানী তেহরানসহ ইরানজুড়ে প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বোম্বার বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমে গেছে।
নৌ-অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি
অ্যাডমিরাল কুপার জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অভিযান তীব্রতর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর আগে ২৪টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার কথা বললেও, বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে গেছে। এই নৌ-অভিযান ইরানের সামুদ্রিক ক্ষমতাকে সীমিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
যৌথ হামলায় প্রাণহানি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হামলার পটভূমি ও উদ্দেশ্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপক হামলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের সামরিক হুমকি প্রশমিত করা। বিশেষ করে, ভূগর্ভস্থ মিসাইল লঞ্চারগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে। এই অভিযানটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মিসাইল উন্নয়নের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানে চলমান এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।



