ট্রাম্পের দাবি: যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির জন্য ইরান বারবার যোগাযোগ করছে
ট্রাম্পের দাবি: যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির জন্য ইরান যোগাযোগ করছে

ট্রাম্পের দাবি: যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির জন্য ইরান বারবার যোগাযোগ করছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য চুক্তির আকুতি জানিয়ে বারবার যোগাযোগ করছে। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ ও মার্কিন গণমাধ্যম ‘একিওস’-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের সামরিক শক্তি সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য

গত বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসে আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি ও তার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে দাবি করেন যে ইরানের সামরিক শক্তি বর্তমানে খাদের কিনারে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কার্যকর বিমান বাহিনী বা আকাশ প্রতিরক্ষা নেই। তাদের অধিকাংশ বিমান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’ ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং লঞ্চারের প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ এরই মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

চুক্তির জন্য ইরানের আকুতি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প বলেন, শত্রু হিসেবে ইরান শক্তিশালী হলেও বর্তমানে তারা দিশেহারা হয়ে চুক্তির জন্য ‘কল’ দিচ্ছে। তবে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে তিনি যোগ করেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের চেয়েও বেশি যুদ্ধ করতে চাই।’ এই মন্তব্য ইরানের প্রতি তার কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত

যুদ্ধ ও চুক্তির আলোচনার বাইরেও ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নির্ধারণে তার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা থাকা উচিত। ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা না করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করে, তবে তা হবে স্রেফ সময়ের অপচয়।’

মোজতাবা খামেনি সম্পর্কে ট্রাম্পের অবস্থান

খামেনির মেজো ছেলে মোজতাবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে ভাবা হচ্ছে— এমন প্রসঙ্গের অবতারণা করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, মোজতাবাকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হলে তিনি তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। এই মন্তব্য ইরানের সার্বভৌমত্বে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরান-মার্কিন সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেহরান এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করলেও, ভবিষ্যতে এই সংঘাতের দিকনির্দেশনা কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।