আজারবাইজানে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানের জোরালো অস্বীকার
আজারবাইজান সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, ইরানি ড্রোন তাদের স্বায়ত্তশাসিত নাখচিভান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এই ঘটনায় বাকু প্রশাসন তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ইরান দ্রুতই এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করি না।’ তার এই বক্তব্য তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের নীতি হলো শুধুমাত্র সেইসব সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো, যেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আজারবাইজানের দাবি ও প্রতিক্রিয়া
আজারবাইজানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুটি ইরানি ড্রোন তাদের নাখচিভান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে একটি বিমানবন্দরের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজারবাইজান সরকারের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান
ঘারিবাবাদি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান কেবলমাত্র সেইসব শত্রুদের ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করে, যেগুলো সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
এই ঘটনাটি আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যকার এই বিতর্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



