মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও হামলার প্রভাবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে গত শনিবার থেকে ছয় দিনের মধ্যে মোট ৫০টি ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
বিমানবন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, শনিবার তিনটি বহির্গমন ও তিনটি আগমনী ফ্লাইট বাতিলের মাধ্যমে এই ধারা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যার শীর্ষে ছিল গত বুধবার। ওই দিন এককভাবে ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা চলমান সংঘাতের তীব্রতা নির্দেশ করে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো এই প্রভাব থেকে মুক্ত রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও আশ্বাস
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি, শারজা এবং দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফ্লাইট পরিচালনায়, ফলে আমরা বাধ্য হয়েই একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পরিস্থিতি শান্ত হলে ফ্লাইট চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এই সংকটের ফলে যাত্রীরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং বিমানবন্দরে অপেক্ষারত অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানানো হয়েছে।
