কাতারের রাজধানী দোহায় তীব্র বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন-মিসাইল হামলা অব্যাহত
বৃহস্পতিবার কাতারের রাজধানী দোহায় একের পর এক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই বিস্ফোরণ ঘটেছে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
দোহায় তীব্র বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ
এএফপির সাংবাদিকরা দোহায় অবস্থান করে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণগুলো ইরান গত শনিবার থেকে উপসাগরীয় দেশটিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র। দোহার দিগন্তে কালো ধোঁয়ার একটি স্তম্ভ দেখা গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী আসন্ন মিসাইল হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করছে।
কাতার-ইরান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও কঠোর বক্তব্য
বৃহস্পতিবার কাতারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র তার মিসাইল ও ড্রোন অভিযান শুরু করার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আল থানি ইরানকে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষতি সাধন এবং তাদের একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন।
বাহরাইন, সৌদি আরব ও কুয়েতেও হামলা
বৃহস্পতিবার বাহরাইনের রাজধানী মানামাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তিনটি ক্রুজ মিসাইল এবং কয়েকটি ড্রোন প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানিয়েছে, ‘আল-খার্জ শহরের বাইরে তিনটি ক্রুজ মিসাইল প্রতিরোধ ও ধ্বংস করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কুয়েতের উপকূলীয় জলসীমায় একটি ট্যাংকারে ‘বৃহৎ বিস্ফোরণ’ ঘটেছে, যার ফলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের দাবি
ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে। এই প্রণালী উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু জলপথ এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি পরিবহন রুটগুলোর মধ্যে একটি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।
