ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত, উত্তেজনা বৃদ্ধি
ওমানে তেল ট্যাংকার হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত

ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দুজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার এবং ক্রু সদস্য দলীপ সিং। আশীষ কুমারের বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যে, অন্যদিকে দলীপ সিংয়ের বাড়ি রাজস্থানে অবস্থিত।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ উপকূলের কাছে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। এই হামলার আগে ওমানের দুকম বন্দর এলাকাতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে অঞ্চলটি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পালাউ প্রজাতন্ত্রের পতাকাবাহী ট্যাংকারটি মুসান্দাম গভর্নরেটের খাসাব বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন—এর মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হামলার পর জাহাজে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

নিহত নাবিকদের অবস্থা

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহত ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার ও দলীপ সিংয়ের দেহ পুড়ে গিয়েছিল। ক্যাপ্টেন আশীষ কুমারের দেহাবশেষ তার কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, হামলার সময় দলীপ সিং জাহাজের সামনের অংশে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন, যা তাদের নিকটবর্তী অবস্থান এবং হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে, যা বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমবেদনা জানিয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে।