ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নতুন একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সরাসরি এই উৎক্ষেপণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে সম্প্রতি কমিশন করা পাঁচ হাজার টন ওজনের নতুন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ 'চো হিয়ন' থেকে।
কিম জং উনের তদারকিতে উৎক্ষেপণ
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, বুধবার (৪ মার্চ) সমুদ্র থেকে স্থলভাগে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। জাহাজটির আনুষ্ঠানিক কমিশনিংয়ের আগেই এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। কিম জং উন ব্যক্তিগতভাবে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরিদর্শন করেছেন নামপো শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন 'চো হিয়ন' শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলোর মধ্যে প্রথম জাহাজটি।
নৌ প্রতিরক্ষার নতুন প্রতীক
কিম জং উন এই পরীক্ষাকে নতুন যুদ্ধজাহাজটির সামরিক সক্ষমতার একটি মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, এটি উত্তর কোরিয়ার সমুদ্র প্রতিরক্ষার একটি নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি একই শ্রেণির বা এর চেয়েও উন্নত আরও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছেন।
নেতা কিম জং উন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশটির নৌবাহিনীতে পারমাণবিক অস্ত্র সংযোজনের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, পানির নিচে ও পানির অন্য দিক থেকে আঘাত হানার জন্য আমাদের নৌবাহিনীর শক্তি দ্রুত বাড়বে।
অর্ধশতাব্দীর মাইলফলক
পশ্চিমাঞ্চলের নামপো জাহাজঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে কিম আরও বলেন, এই সাফল্যগুলো দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত অর্ধশতাব্দীতে অর্জিত হয়নি। তার মতে, এই অর্জন উত্তর কোরিয়ার নৌশক্তির জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
কৌশলগত অস্ত্রের তাৎপর্য
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া সাধারণত 'কৌশলগত' অস্ত্র শব্দটি ব্যবহার করে এমন অস্ত্র বোঝাতে, যেগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতা থাকতে পারে। এই পরিভাষা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নৌ আধুনিকায়নের পটভূমি
উত্তর কোরিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী নৌ আধুনিকায়ন কর্মসূচি ২০২৫ সালের মে মাসে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সে সময় চংজিন শিপইয়ার্ডে একই শ্রেণির আরেকটি ডেস্ট্রয়ার পানিতে নামানোর সময় দুর্ঘটনায় উল্টে যায়। কেসিএনএর এক বিরল স্বীকারোক্তিতে জানানো হয়েছিল, জাহাজ নামানোর যন্ত্রে ত্রুটির কারণে ডেস্ট্রয়ারটির পেছনের অংশ আগে পানিতে পড়ে যায়।
এই ঘটনায় জাহাজের কাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামনের অংশটি জাহাজঘাটেই আটকে থাকে। কিম জং উন এই ঘটনাকে অপরাধমূলক কাজ বলে আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছিলেন।
বর্তমান সফল পরীক্ষা সেই পূর্বের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে উত্তর কোরিয়ার নৌশক্তি বৃদ্ধির প্রতিই ইঙ্গিত করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই এই সামরিক প্রদর্শনী বিশেষ বার্তা বহন করে আসছে।



