ইরানে নতুন ইসরাইলি হামলা: সহস্রাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত
ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইসরাইল। এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বসবাসের স্থানগুলো লক্ষ্য করে পূর্ববর্তী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও যৌথ অভিযান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে ইরানের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ইরানের দুই হাজারেরও বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হেনেছে।
ইরানের পাল্টা হামলা ও মার্কিন সৈন্য হতাহত
অন্যদিকে, ইরান তাদের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই পাল্টা হামলার ফলে কমপক্ষে ছয়জন মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের এই প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
মানবাধিকার সংস্থার ভয়াবহ পরিসংখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইরানে ১,০৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ১৮১ জন দশ বছর বা তার কম বয়সী শিশু রয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪০২ জনে, যাদের মধ্যে একশত জনই নাবালক শিশু।
২৪ ঘণ্টায় ১০৪টি হামলার রেকর্ড
এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে কমপক্ষে ১০৪টি পৃথক হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই হামলাগুলো সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সাধারণ আবাসিক এলাকায় পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিশ্ব সংস্থাগুলো যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
