ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু আঘাত
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিধ্বংসী হামলায় একটি সাবমেরিনসহ ইরানের অন্তত সতেরোটি গুরুত্বপূর্ণ রণতরি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর বিশাল সামরিক উপস্থিতি
অ্যাডমিরাল কুপার তার বিবৃতিতে জানান, চলমান এই বিশাল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশ হাজারের বেশি সেনা, দুই শত যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং অসংখ্য বোমারু বিমান সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধবিমানগুলোর কঠোর নজরদারি চলমান আছে।
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক ক্ষতি
মার্কিন এই উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তেহরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কুপারের মতে, নিয়মিত হামলার ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বর্তমানে লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা ও সংকট
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এখন পর্যন্ত পাঁচ শতটিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারেরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে বর্তমানে তারা উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন এই সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের এবং আমাদের সহযোগীদের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের দিন দিন কমছে। অন্যদিকে আমাদের সমরশক্তি আরও বাড়ছে।’
মার্কিন বাহিনীর অগ্রযাত্রা ও ইরানের চ্যালেঞ্জ
কুপার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলার কারণে তেহরান এখন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অ্যাডমিরাল কুপারের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সতেরোটি রণতরি ধ্বংসের দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন মনে করছে, তাদের এই বিশেষ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ছায়া শক্তিগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, তারা কি এই বড় ধরনের ক্ষতির পর আবারও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করবে নাকি কৌশল পরিবর্তন করবে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যাডমিরাল কুপার তার মূল্যায়নে বলেন, ‘আমার সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো— আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনে অনেক এগিয়ে আছি।’ এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।
