মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম সংকটে
মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং কূটনৈতিক উপস্থিতির নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির সম্মুখীন। বিশাল এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
হামলায় মার্কিন সেনা নিহত ও সরঞ্জামগত ক্ষতি
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিন দিন ধরে চলমান এই অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত ছয় জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় তারা প্রাণ হারান। এছাড়াও সোমবার কুয়েতের আকাশে ভুলবশত নিজেদের গোলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি অভিযানে মার্কিন বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় সরঞ্জামগত ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ইরাক, সৌদি আরব ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
ইরাক, সৌদি আরব এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের আবাসন দেওয়া ঘাঁটিগুলোতেও ইরানের হামলা চালানো হয়েছে। হাজার হাজার মার্কিন সেনা সদস্যের পাশাপাশি কয়েক ডজন দূতাবাস ও সরকারি স্থাপনা রক্ষা করা এখন ওয়াশিংটন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা রবি চৌধুরী বলেন, ‘এই যুদ্ধে মার্কিন স্থাপনাগুলো নজিরবিহীন পরীক্ষার মুখে পড়বে। শত্রুরা আমাদের আকাশসীমা ব্যবহারের সক্ষমতা নষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানার সদিচ্ছা ও সামর্থ্য দুটোই দেখিয়েছে।’
তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু
ইরান তার হামলার পরিধি আরও বাড়িয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্রে আগুন লেগেছে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রফতানিকারক দেশ কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন সামরিক সংকট ও সতর্কতা
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন আগেই হোয়াইট হাউজকে সতর্ক করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিনদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে চীন বা অন্য কোনও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্রের মজুতও ফুরিয়ে যেতে পারে। প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের সংকটে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ইরানের বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের সামনে তাদের দুর্বল করে দিচ্ছে।
এফ-১৫ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য
এদিকে এফ-১৫ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুলবশত বিমানগুলো ভূপাতিত করা হয়। তবে ছয় জন ক্রু সদস্য নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কুয়েত সিটির উপকণ্ঠে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধে হতাহতের ঘটনা এড়ানো অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে এটি শেষ হওয়ার আগে আরও প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বাস্তবতা এমনই।’
