মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলা: মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস, বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব ঘটনায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর আঞ্চলিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে সীমিত মাত্রায় আগুন লাগে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় দূতাবাসের সামান্য বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে। তবে হামলার সময় দূতাবাস ভবনটি খালি ছিল বলে জানা গেছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়ার আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আগুনের শিখা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, কূটনৈতিক পাড়া লক্ষ্য করে আসা চারটি ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।
বাহরাইন ও ওমানে হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটিটির কমান্ড সদর দপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে সামান্য ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজনেশনকে বলেছেন, দূতাবাসে হামলা এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জবাব শিগগিরই স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আপনারা শিগগিরই তা জানতে পারবেন।
হামলার মুখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ইরাক থেকে জরুরি নয়, এমন কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে, কনস্যুলার–বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ইরান, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের অবিলম্বে ওই সব দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেন।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে দূতাবাসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও জানিয়েছে, ইসরায়েল ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের সরিয়ে নিতে বা সরাসরি সহায়তা করতে তারা অক্ষম।
সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্দেশনা
সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরান শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের হামলার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলার কারণে আমরা সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে সৌদি আরবে মার্কিন মিশন এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের এই পাল্টা হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
