ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত, মোট প্রাণহানি ছয়
ইরান অভিযানে আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত, মোট ছয়

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি বেড়ে ছয়

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোমবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আরও দুই মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে। এ নিয়ে অভিযানে মোট ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

নিখোঁজ সেনাদের মরদেহ উদ্ধার ও ক্রমবর্ধমান হতাহতের বিবরণ

সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ছয়জন মার্কিন সেনা 'অ্যাকশনে' নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের প্রাথমিক হামলার শিকার হওয়া একটি স্থাপনা থেকে নিখোঁজ দুই সেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে, রবিবার তিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী, যা শনিবার ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ছিল।

সোমবার সকালে চতুর্থ এক সেনার মৃত্যুর খবর আসে, যিনি ইরানের প্রাথমিক হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ক্রমাগত প্রাণহানি সামরিক অভিযানের তীব্রতা এবং ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে।

অপারেশন এপিক ফিউরি ও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কুয়েতের একটি ঘাঁটিতে এই সেনারা নিহত হয়েছেন। অভিযানে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া, আরও কয়েকজন সেনা সদস্য স্প্লিন্টারের আঘাতে সামান্য আহত হলেও তারা দ্রুতই দায়িত্বে ফিরছেন বলে জানানো হয়েছে, যা সামরিক অপারেশনের চলমান প্রকৃতি নির্দেশ করে।

নিহতদের পরিচয় গোপন রাখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সেন্টকম জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের সম্ভাবনা ইঙ্গিত করে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।