মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষিতে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহসহ বিভিন্ন এয়ারফিল্ড এবং ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর) বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এ অঞ্চলগামী ও আগত আরও সাতটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এসব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যা চলমান সংকটের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত তথ্য
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত মোট ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজ মঙ্গলবার বাতিল করা সাতটি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি ডিপার্চার ফ্লাইট ও একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট, এবং এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি ডিপার্চার ফ্লাইট ও দুইটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আকাশসীমা বন্ধ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
যুদ্ধাবস্থার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বমোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ভ্রমণকারী ও বিমান সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নিয়মিত আপডেট প্রদান করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে। এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



